প্রধান শিক্ষক ছাড়াই চলছে সিলেট বিভাগের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

,
প্রকাশিত : ১৯ অক্টোবর, ২০২১     আপডেট : ৯ মাস আগে

কাউসার চৌধুরী

প্রধান শিক্ষক ছাড়াই চলছে সিলেট বিভাগের ৮২৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রধান শিক্ষক না থাকায় এ সকল বিদ্যালয়ে সহকারি শিক্ষকরা প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। প্রধান শিক্ষক বিহীন বিদ্যালয়সমূহে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের পাশাপাশি প্রশাসনিক কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে এতথ্য জানা গেছে।

প্রাথমিক শিক্ষা সিলেট বিভাগের উপ-পরিচালক মো. মোসলেম উদ্দিন এ বিষয়ে  জানিয়েছেন,অবসর ও বদলিজনিত কারণে পদগুলো শূন্য হয়েছে। অনেক বিদ্যালয়ে সহকারি শিক্ষক প্রধান শিক্ষকের চলতি দায়িত্ব পালন করছেন। তাদেরকে প্রধান শিক্ষকের পদে স্থায়ীভাবে পদোন্নতির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দিচ্ছে বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি)। বিসিএসে উত্তীর্ণ নন ক্যাডার প্রার্থীদেরকে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ দেয় পিএসসি। আগামীতে আরও নিয়োগ দেয়ার কথা রয়েছে। বিদ্যমান শূন্য পদের বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

প্রাথমিক শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সিলেট বিভাগের ৪ জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের মোট পদের সংখ্যা ৫ হাজার ৫৪টি। এর মধ্যে কর্মরত রয়েছেন ৪ হাজার ২২৯ জন। বাকী ৮২৫টি পদ শূন্য রয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে সর্বোচ্চ শূন্য পদ রয়েছে শ্রীমঙ্গল, ধর্মপাশা, কমলগঞ্জ,দিরাই ও গোয়াইনঘাট উপজেলায়। বিভাগের চার জেলার মধ্যে সুনামগঞ্জ জেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ বেশী শূন্য।

সিলেট জেলায় প্রধান শিক্ষকের ১ হাজার ৪৭৭টি পদের বিপরীতে বর্তমানে ১ হাজার ২৬৩ জন কর্মরত রয়েছেন। সিলেট সদর উপজেলায় ১২৫টি পদের মধ্যে ২১টি, দক্ষিণ সুরমা উপজেলায় ১১৬টি পদের মধ্যে ১৬টি,ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় ৪৪টি পদের মধ্যে ৩টি,বালাগঞ্জ উপজেলায় ৭২টি পদের মধ্যে ১২টি, বিশ্বনাথ উপজেলায় ১৩৩টি পদের মধ্যে ২৩টি,ওসমানীনগর উপজেলায় ১১০টি পদের মধ্যে ৯টি, জকিগঞ্জ উপজেলায় ১৩৬টি পদের মধ্যে ১৪টি,কানাইঘাট উপজেলায় ১৩০টি পদের মধ্যে ৫টি,বিয়ানীবাজার উপজেলায় ১৫০টি পদের মধ্যে ২৫টি,গোলাপগঞ্জ উপজেলায় ১৮০টি পদের মধ্যে ২৩টি, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় ৭৩টি পদের মধ্যে ২১টি, গোয়াইনঘাট উপজেলায় ১৩৬টি পদের মধ্যে ৩১টি ও জৈন্তাপুর উপজেলায় ৭২টি প্রধান শিক্ষকের পদের মধ্যে ১১টি পদ শূন্য রয়েছে।

হাওর অধ্যুষিত সুনামগঞ্জ জেলায় মোট প্রধান শিক্ষকের পদের সংখ্যা ১ হাজার ৪৭৫টি। এর মধ্যে ১ হাজার ২১৩ জন কর্মরত আছেন। বাকী ২৬২টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে । সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় ১২৯টি পদের মধ্যে ৯টি, দোয়ারাবাজার উপজেলায় ১০৪টি পদের মধ্যে ১৩টি, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় ৭৮টি পদের মধ্যে ১০টি, ছাতক উপজেলায় ১৮৫টি পদের মধ্যে ৩৬টি, তাহিরপুর উপজেলায় ১৩৪টি পদের মধ্যে ১৭টি, জামালগঞ্জ উপজেলায় ১২৬টি পদের মধ্যে ৬টি,ধর্মপাশা উপজেলায় ১৯৪টি পদের মধ্যে ৫২টি, শাল্লা উপজেলায় ১০৭টি পদের মধ্যে ২৬টি, দিরাই উপজেলায় ১৬৩টি পদের মধ্যে ৪০টি, জগন্নাথপুর উপজেলায় ১৫৮টি পদের মধ্যে ২৪টি এবং শান্তিগঞ্জ উপজেলায় ৯৭টি প্রধান শিক্ষকের পদের মধ্যে ২৩টি পদ শূন্য।

মৌলভীবাজার জেলায় প্রধান শিক্ষকের মোট পদ ১ হাজার ৫০টি। কর্মরত রয়েছেন ৭৯৫ জন। বর্তমানে শূন্য পদের সংখ্যা ২৫৫টি। মৌলভীবাজার সদর উপজেলায় ১৯৩টি পদের মধ্যে ৩৩টি, রাজনগর উপজেলায় ১৪০টি পদের মধ্যে ৩০টি, বড়লেখা উপজেলায় ১৫১টি পদের মধ্যে ২৩টি, জুড়ী উপজেলায় ৮৩টি পদের মধ্যে ২৪টি, কুলাউড়া উপজেলায় ১৯৩টি পদের মধ্যে ৩৬টি, শ্রীমঙ্গল উপজেলায় ১৩৮টি পদের মধ্যে ৬৪টি ও কমলগঞ্জ উপজেলায় ১৫২টি পদের মধ্যে ৪৫টি পদ শূন্য ।

হবিগঞ্জ জেলায় প্রধান শিক্ষকের মোট পদের সংখ্যা ১ হাজার ৫২টি। বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন ৯৫৮ জন, বাকী ৯৪টি পদ বেশ কিছু দিন ধরে শূন্য। হবিগঞ্জ সদর উপজেলায় ১৪৩টি পদের মধ্যে ২৩টি, নবীগঞ্জ উপজেলায় ১৮২টি পদের মধ্যে ১৩টি, লাখাই উপজেলায় ৭২টি পদের মধ্যে ১টি, বানিয়াচং উপজেলায় ১৬৭টি পদের মধ্যে ২৬টি, আজমিরীগঞ্জ উপজেলায় ৬৫টি পদের মধ্যে ১০টি, মাধবপুর উপজেলায় ১৪৯টি পদের মধ্যে ৫টি, চুনারুঘাট উপজেলায় ১৭১টি পদের মধ্যে ৬টি এবং বাহুবল উপজেলায় ১০০টি পদের মধ্যে ১০টি পদ বর্তমানে শূন্য রয়েছে বলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্র জানিয়েছে।


আরও পড়ুন

কাঁদলেন এসপি হারুন

         সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কাজ করতে গিয়ে...

নিখোঁজের ৫ দিন পর তরুণের ঘর থেকে কিশোরী উদ্ধার

1        সিলেটএক্সপ্রেস সিলেটে নিখোঁজের ৫ দিন...