বিএনপিতে বিরাজ করছে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা

,
প্রকাশিত : ২৯ মার্চ, ২০২২     আপডেট : ৩ মাস আগে

কাউন্সিলকে ঘিরে বিএনপিতে বিরাজ করছে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা। বহুল প্রত্যাশিত সিলেট জেলা বিএনপির সম্মেলন ও কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আজ মঙ্গলবার। কাউন্সিলকে সামনে রেখে সাজানো হচ্ছে রেজিষ্ট্রারী মাঠ। প্রস্তুত করা হয়ে মঞ্চ।

রেজিষ্ট্রারী মাঠের আশপাশ এলাকা ব্যানার ফেস্টুন সহ রংবেরংয়ে বিলবোর্ডে সয়লাব। সেখানে শোভা পাচ্ছে সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান, বর্ষীয়ান বিএনপি নেতা এম এ হক, নিখোঁজ হওয়া বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলী সহ প্রবীণ বিএনপি নেতাদের ছবি সম্বলিত বিলবোর্ড। ১৯৯৩ সালের পর এবার ১৮টি ইউনিটের সকল সদস্যগণ সরাসরি ভোট দিয়ে নেতা নির্বাচন করছিলেন। ২০১৬ সালের কাউন্সিলে একটি ইউনিটের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকগণ ভোট দিয়ে নেতৃত্ব নির্বাচন করেছিলেন।
এদিকে সোমবার সিলেট বিভাগ বিএনপির সাংগঠনিক দায়িত্বশীল ও দলটির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা: এ জেড এম জাহিদ হোসেনের উপস্থিতিতে সকল ভোটারদের কাউন্সিলার কার্ড তুলে দেয় জেলা বিএনপি গঠিত নির্বাচন কমিশন। কাউন্সিলার কার্ড হাতে পেয়ে উচ্ছসিত কাউন্সিলারগণ। অপরদিকে শেষ সময়ে এসে ব্যস্ত সময় পার করেছেন প্রার্থীগণ। ৩ টি পদে ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। কাউন্সিলে কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ। সকল প্রার্থীগণ নিজের বিজয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টায় শুরু হবে কাউন্সিলের কার্যক্রম। সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। সম্মেলনের পরপরই অনুষ্ঠিত হবে জেলা বিএনপির কাউন্সিল।
গত ২১ মার্চ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিলো এ সম্মেলন ও কাউন্সি। তবে ২৪ ঘন্টা আগে কেন্দ্রের নির্দেশে আয়োজন স্থগিত করা হয়। কেন্দ্র থেকে পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয় ২৯ মার্চ। সম্মেলন ও কাউন্সিল হওয়ার কথা ছিলো সিলেট আলিয়া মাদরাসা মাঠে। তবে এদিন আলিয়া মাদরাসারা মাঠের পার্শ্ববর্তী জেলা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ ও মঙ্গোলিয়া ফুটবল দলের মধ্যে খেলা অনুষ্ঠিত হবে। তাই কেন্দ্রের সম্মতিতে সম্মেলন ও কাউন্সিলের স্থান পরিবর্তন করেন রেজিষ্ট্রারী মাঠে নিয়ে আসা হয়।
জেলা বিএনপির কাউন্সিলে ৩ পদে লড়ছেন ৯ জন। সভাপতি পদে বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য ও সাবেক সভাপতি আবুল কাহের চৌধুরী শামীম ও যুবদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক পদে জেলার সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট এমরান চৌধুরী, সাবেক সহ-সভাপতি আব্দুল মান্নান, সাবেক স্বাস্থ্য সম্পাদক আ. ফ. ম কামাল এবং সাংগঠনিক সম্পাদক পদে জেলার সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম আহমদ, মহানগর বিএনপির সাবেক সহ-দফতর সম্পাদক ও সাবেক ছাত্রদল নেতা লোকমান আহমদ, সাবেক আইন সম্পাদক এডভোকেট এম মুজিবুর রহমান মুজিব প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এবারের কাউন্সিলে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী সভাপতি পদে প্রার্থীতা ঘোষণা করেছিলেন। তবে তিনি গত ২২ মার্চ সংবাদ সম্মেলন করে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেন।
জেলা বিএনপি সূত্র জানায়, নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এবার কাউন্সিলে ভোট দিবেন ১৮ শ ১৮ জন ভোটার। এর আগে ১৯৯৩ সালে একবার এভাবে বিভিন্ন ইউনিট কমিটির সবাই জেলা কাউন্সিলে ভোট দিয়েছিলেন। আর দীর্ঘ ২৯ বছর এবার সেই নিয়মে হচ্ছে জেলা বিএনপির নেতৃত্ব নির্বাচন।
সম্মেলন ও কাউন্সিলকে সামনে রেখে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্যে দিয়ে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন ১৩ বিএনপি নেতা। তবে যাচাই-বাছাই ও প্রত্যাহার শেষে ৩ পদে লড়াই করবেন ৯ জন।
যদিও সভাপতি, সিনিয়র সহসভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক এই ৫ পদে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু কেন্দ্রের নির্দেশনায় গত ১৭ মার্চ সকালে জেলা বিএনপি সিদ্ধান্ত নেয় সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক এই ৩ পদে নির্বাচন হবে। এই ৩ পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারীরা ওইদিন মনোনয়নপত্র জমা দেন।
এর আগে কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে গত ১৬ মার্চ সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক এই ৫টি পদে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন জেলা বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের প্রায় ৩০ জন নেতা। তবে কেন্দ্রীয় বিএনপির ১৭ মার্চের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিকেল ৫টা পর্যন্ত উল্লিখিত ৩টি পদের প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দেন।
সিলেট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও কাউসিলের জন্য গঠিত নির্বাচন কমিশনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার এডভোকেট মো. আব্দুল গাফফার দৈনিক জালালাবাদকে বলেন, জেলা বিএনপির কাউন্সিলে ১৮ উপজেলা ও পৌর ইউনিটের মোট ১৮ শ ১৮ জন কাউন্সিলর ভোট দেবেন। মঙ্গলবার দুপুর ১২ টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরুর প্রস্তুতি রয়েছে। যা চলবে একটানা বিকাল পর্যন্ত। নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী আইজীবী ফোরামের নেতৃবৃন্দ সহযোগিতা করবেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনীর সদস্য, সাংবাদিক ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দদেরকে নির্বাচন পরিদর্শনের আহ্বান জানানো হয়েছে। এছাড়া নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে একটি স্বেচ্ছাসেবক টীম গঠন করা হয়েছে।
এদিকে জেলা বিএনপির সম্মেলন ও কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশ। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) সূত্র জানিয়েছে, সমাবেশস্থলের বিশৃঙ্খলাসহ যে কোনো ধরণের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি বা ঘটনা ঠেকাতে পুলিশ প্রস্তুত রয়েছে। সকাল থেকেই সম্মেলনস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হবে।


পরবর্তী খবর পড়ুন : বজ্রপাতের প্রবল সম্ভাবনা

আরও পড়ুন

প্রবাসী কমিউনিটি নেতার দেশে আগমন উপলক্ষে মতবিনিময় সভা

         সিলেট বিভাগ গণদাবী ফোরাম নিউইয়র্ক...

মা

         সাদিক শামসুল ফুলের সৌরভ না...