বিয়ানীবাজারে দুইজনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত

,
প্রকাশিত : ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১     আপডেট : ১০ মাস আগে

সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার জলঢুপ গ্রামের আজমল হোসেন হত্যা মামলায় দুইজনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল রোববার সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ৩য় আদালতের বিচারক মো: মিজানুর রহমান ভূঁইয়া এই দন্ডাদেশ দেন। ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্তরা হচ্ছে- মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার কুতুবনগর গ্রামের আব্দুল খালিকের ছেলে (বর্তমানে হেকিম আলীর বাড়ি জলঢুপ) রুহেল আহমদ ওরফে কালা ও একই এলাকার গুলসা এলাকার বিজয় কান্ত এর ছেলে (বর্তমানে জলঢুপ বড় গ্রাম) অপু দাস ওরফে জাকারিয়া।

আদালত সূত্র জানায়, মামলার রায়ে দন্ডিত দুই আসামীকে ৩০২ ধারায় মৃত্যুদন্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ৬ মাসের কারাদণ্ড, ৩৯৭ ধারায় দশ বছরের কারাদন্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ৩ মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। রায় ঘোষণা করার সময় দুই আসামী আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।

এই মামলার চার আসামীর মধ্যে দুইজনকে ফাঁসি দেয়া হলেও অপর দুই আসামী সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ থানার শান্তিনগর গ্রামের রুস্তম আলীর ছেলে মোঃ হোসাইন আহমদ ও মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল এলাকার নলুয়ারপাড় গ্রামের আলকাছ উদ্দিনের ছেলে জামাল উদ্দিনের বয়স কম হওয়াতে শিশু আদালতে মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

মামলার বিবরণীতে জানা গেছে, আজমল হোসেন ২০১৬ সালের ৩০ জানুয়ারী উপশহর বাসা থেকে নিজ বাড়ি বিয়ানীবাজারের জলঢুপ গ্রামে যান। এলাকায় তিনি একটি মাদ্রাসা গড়ে তুলেছেন। মাদ্রাসার কাজের জন্য তিনি ৫০ হাজার টাকা সাথে করে নিজ বাড়িতে নিয়ে যান। এ এলাকায় একজন দানশীল ও সজ্জন ব্যক্তি হিসেবেও তিনি পরিচিত ছিলেন। ৩ ফেব্রুয়ারি সকালে মাদ্রাসার শিক্ষকরা তাঁর বাড়িতে গেলে রক্তাক্ত অবস্থায় ঘরের মেঝেতে তাকে পড়ে থাকতে দেখেন। তারা বিষয়টি আত্বীয়-স্বজনসহ সবাইকে জানালে আত্মীয়-স্বজনসহ উপস্থিত সবাই তাকে সিলেটের একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসারত অবস্থায় আজমল হোসেন মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পরে মামলাটি তদন্ত করে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চারজন আসামীকে পুলিশ শনাক্ত করে ও ১৯ জন সাক্ষীর জবানবন্দি নেয়। দীর্ঘ বিচারিক কার্যক্রম শেষে গতকাল রোববার অতিরিক্ত দায়রা জজ ৩য় আদালত মিজানুর রহমান ভূইয়া এই মামলার রায় ঘোষণা করেন।
এই মামলায় বাদীপক্ষের আইনজীবী হিসেবে ছিলেন এডভোকেট রাসেল খাঁন ও এডভোকেট নূরুল আমীন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হিসেবে ছিলেন এডিশনাল পিপি এডভোকেট জসীম উদ্দীন আহমদ। বিবাদী পক্ষের আইনজীবী হিসেবে ছিলেন এডভোকেট আলী হায়দার।
বাদীপক্ষের আইনজীবী রাসেল খাঁন এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। উচ্চ আদালতেও এই রায় বহাল থাকবে বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।


পরবর্তী খবর পড়ুন : অসম্ভব ভালো লাগা অনুভূতি

আরও পড়ুন

ওসমানীতে বেড়েছে মহিলা ও শিশু ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা

         সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক  : গত...

মাধবপুরে চেক প্রতারণা করে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন আটক-১

         সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক : হবিগঞ্জের...

সূর্যোদয় এতিম স্কুলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দাঁড়কাক’র শীতবস্ত্র বিতরণ

         সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: দাঁড়কাক সামাজিক...