মানুষ, তোমার জীবন মানে জন্মমৃত্যু

,
প্রকাশিত : ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১     আপডেট : ১০ মাস আগে

ইছমত হানিফা চৌধুরী:

মানুষ, তোমার জীবন মানে জন্মমৃত্যু আয়ুসেতু সকর্মক মানবসময়।
কবি লাভলী চৌধুরীর মৃত্যু আমাদেরকে শোকাহত করেছে।কিছু শুন্যতা হাহাকার করে যেন, হাতুড়ি পিঠে ভেংগে যায় বুকের পাজর। এই শহরের ধুলিকণায় লেপ্টে আছে যে ছায়া,তাকে ভুলা যাবেনা, আবার থাকে ছোয়া যাবেনা।আমি উনাকে জানতাম ছোটবেলা থেকে,আদর,
ভালবাসা মায়া জড়ানো এক বৃত্তের ভিতর দিয়ে উনার সাথে, চলেছি সুদীর্ঘ পথ।তিনি আমাকে কখনো মায়ের মতো শাসন করেছেন, আবার কখনো শিক্ষকের মতো দিক নিদের্শনা দিয়েছেন। আমায় ডাক নাম ধরে আহ্লাদী সুরে ডাকার লোক এখন কমে যাচ্ছে।ব্যাক্তিগত জীবনে আমায় উপদেশ দিয়ে শান্তনা দিয়ে সব সময় পাশে ছিলেন আপা। অসুখে আনন্দে সুখে দুখে সবার আগে পাশে থাকতেন। চলে যাওয়ার জন্য এই দুনিয়ায় সবাই এসেছি,সময় হলে ফিরতে হবে।এই শহরে আমরা যেন দিনদিনে মুরুব্বীশূন্য হয়ে যাচ্ছি। কবি ও গল্পকার লাভলী চৌধুরী,৭১ বৎসর বয়সে, ৪-৯-২০২১ শনিবার. নগরীর বেসরকারী একটি ক্লিনিকে মৃত্যুবরণ করেন।তিনি ছিলেন ষাট দশকের একজন জনপ্রিয় কবি ও কথাশিল্পী। সিলেটের সুবিদবাজার এলাকার ‘লাভলী রোড’- তাঁর নামে নামকরণ হয়েছে। কবি লাভলী চৌধুরীর জন্ম ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দের ১১ মে।
১৯৬৮ সালে ‘শিখা’ নামে একটি সাহিত্যপত্রিকা সম্পাদনার মাধ্যমে সম্পাদক হিসেবে লাভলী চৌধুরীর সাহিত্যাঙ্গনে পরিচিত হন। গল্প লিখে তিনি সাহিত্যাঙ্গনে প্রবেশ করলেও কবি হিসেবেই খ্যাত।
কবি লাভলী চৌধুরী বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনের তালিকাভুক্ত গীতিকার, নাট্যকার ও কথক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে উপন্যাস-‘ভালো থেকো’ ‘চোখের জলে অন্ধ আঁখি’, ‘স্মৃতিরা পোহায় রোদ্দুর’, ‘সহেনা যাতনা’, ‘তোমারে লেগেছে এতো যে ভালো’। কাব্য- ‘পুষ্পিতা’, ‘আনন্দ কারাগার’, ‘গীতিগুচ্ছ’, ‘যখন একা বসে থাকি’। জীবনী-‘ত্রিশ বছর পর’, ‘মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন ও তাঁর গীতি কবিতা’। ছোটোগল্প-‘আকাশ প্রদীপ’। কিশোর উপনাস-‘ইমু ও পাগলা হাতি’। তিনি সিলেট লেখিকা সংঘ এবং নন্দিনী সাহিত্য পাঠচক্র সুরমা নন্দিনীর প্রতিষ্ঠাতা। সিলেট কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের কার্যকরি কমিটির সাবেক সদস্য। এছাড়াও জড়িত আছেন আরও অনেক সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে।
সাহিত্য -সাংস্কৃতিক আন্দোলনে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দায়িত্ব আদায় করতে গিয়ে যাদের সাথে পরামর্শ করি তাদের অন্যতম ছিলেন কবি লাভলী চৌধুরী। তিনি অনেক গুণের অধিকারী হওয়ার পরও সবসময় মাথা নত করে নরম পায়ে পথ চলতেন। তাঁর মধ্যে কোন অহংকার ছিল না। তিনি নেতৃত্ব চাইতেন না, তবে তাঁর কথাবার্তা, চলাফেরায় নেতৃত্ব ফুটে উঠতো। তিনি ছোট সবাইকে স্নেহ এবং বড়দেরকে সম্মান করতেন। নিজেকে সবসময় আড়াল করে রাখতে চেষ্টা করতেন।
আল্লাহ তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌসের উচু মাকাম দান করুন। আমিন।


আরও পড়ুন