লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল নির্বাচনে ব্যারিস্টার খালেদ

,
প্রকাশিত : ২৭ মার্চ, ২০২২     আপডেট : ৩ মাস আগে

মাহমুদ রাহমান:
আজ শনিবার। ব্যারিস্টার খালেদের নির্বাচনী ক্যাম্পেইন। গত সোমবার গিয়েছিলাম ইস্ট লন্ডনে খালেদের ল’ চেম্বারে। উদ্দেশ্য দেখা করা। ৬ দিনের সংক্ষিপ্ত সফরের কারণ ছিল অসুস্থ মা, বোন ও তার পরিবার এবং ছোট ভাইকে দেখা। কোথাও বের হবো এমন পরিকল্পনা ছিল না। কারণ আম্মার অসুস্থতার মাত্রা এমন তীব্র ছিল যে, মনে হয়েছিল এই ৫/৬ দিন তাঁর পাশেই বসে থাকবো। আল্লাহর অশেষ মেহেরবানীতে গিয়ে তাঁকে অনেক সুস্থ অবস্থায় পাই।
তাই এক ঘন্টার জন্য বের হলেও খালেদের সঙ্গে দেখা করতে হবে মনে মনে ঠিক করি। খালেদ শুধু আমার সহপাঠী বন্ধু এজন্য নয়। ছোট ভাই ফজলের ইমিগ্রেশন মামলায় খালেদ ছিল একদিকে তার ল’ইয়ার অন্যদিকে বড় ভাই। ফজল খুবই সন্তুষ্ঠ ছিল খালেদের স্নেহ, ভালোবাসা, শাসন এবং আইনী সহযোগিতায়।
২১ মার্চ বিকেলে খালেদের ল’চেম্বারে গিয়ে দেখি ব্যারিস্টার সাহেবের মক্কেলদের লম্বা লাইন। কিছুটা নিয়মের ব্যতিক্রম করে খালেদ আমাকে চেম্বারের ভেতরে তার পাশে বসিয়ে রাখে। এবং একে একে মক্কেলদের ফাইল দেখে আইনী পরামর্শ দিতে থাকে।
খালেদের মেধার বিষয়ে আমাদের সহপাঠী বন্ধুদের কারো দ্বিমত নেই। প্রচন্ড মেধাবী একজন মানুষ সে ছাত্রজীবন থেকেই। আইন পেশায় নিশ্চয়ই তার মেধার কারণে অনেক উপরে যাবে সে ব্যাপারে আমি নিশ্চিত। কিন্তু যে বিষয়টি আমাকে অবাক করেছে তা হচ্ছে মক্কেলদের সঙ্গে ব্যবহার। এত আপন করে সবার সমস্যার সমাধানগুলো বলে দিচ্ছিল- যে কেউ তার কথায় ভরসা না করে উপায় নেই। উকিল এবং ডাক্তারের কাছে মানুষ সমস্যায় পড়ে অসহায় হয়ে যায়। মানুষের এই অসহায়ত্বের সময় অনেকেই পেশাগত কাজের পাশাপাশি ব্যক্তিগত পর্যায়ে ভিকটিমের মানসিক শান্তির দিকটি বিবেচনা করতে ভুলে যান বা সময় দিয়ে সহযোগিতা করতে পারেন না। খালেদকে এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হিসেবে দেখেছি।
প্রবাসে দেশের দলীয় রাজনীতি করা আমার একদম পছন্দ নয়। তাই যারা লন্ডন-আমেরিকায় মূলধারার রাজনীতি করেন তাদের প্রতি আমার এক ধরণের দূর্বলতা রয়েছে। কিন্তু অনেকের যোগ্যতা ও দক্ষতার মান যথেষ্ঠ মনে না হওয়ায় ভোটের সুপারিশ করতে একটু দ্বিধাবোধ করি। কারণ নির্বাচিত নেতার যোগ্যতা যথেষ্ঠ না হলে অন্য কমিনিউনিটির মানুষের কাছে আমাদের কমিউনিটির নেতৃত্ব নিয়ে ভুল বার্তা চলে যায়। কিন্তু খালেদের বিষয়টি ভিন্ন। তাঁর উদার দৃষ্টিভঙ্গি, মানুষকে ভালোবাসার ক্ষমতা, কমিউনিটির সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দেয়ার মানসিকতা এবং এরকম কাজের যোগ্যতা ও দক্ষতা অন্য যেকোনো যোগ্য ব্যক্তির চেয়ে একটুও কম নয়। অনেক ক্ষেত্রেই সে এগিয়ে থাকবে।
তাই আমার বিশ্বাস, লন্ডনের বাঙ্গালী কমিউনিটির সৌভাগ্য ব্যারিস্টার খালেদের মতো একজন মানুষ নির্বাচন করতে এসেছেন। সবার উচিত এই সুযোগকে কাজে লাগানো। খালেদকে ভোট দিয়ে বাংলাদেশী কমিউনিটির সেবা তথা ব্রিটেনের মূলধারায় কাজ করার সুযোগ দেয়া। আমার লন্ডন সফরকে একটু দীর্ঘায়িত করতে পারলে আজ আমিও খালেদের ক্যাম্পেইনে শরীক হতাম। আশা করি যারা লন্ডনে এখন আছেন, ভোটার কিংবা ভোটার নন- সবাই যার যার সাধ্য মতো ব্যারিস্টার সাইফ উদ্দিন খালেদকে সহযোগিতা করবেন।
মার্চ ২৬, ২০২২
মিশিগান, যুক্তরাষ্ট্র।


আরও পড়ুন

জৈন্তাপুরে ব্যবসায়ী নিখোঁজ

          সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক :...

দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা অপরিহার্য

         সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক : সিলেটে...