সন্তাদের স্মৃতির রাজ্যে বেঁচে থাকতে চাই’

,
প্রকাশিত : ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২১     আপডেট : ১০ মাস আগে

তাইসির মাহমুদ :
আমি ভোজন-বিলাসী নই। বেঁচে থাকার জন্য যা খেতে হয় তা হলেই চলে । তবে যখন পরিবারের চাপ থাকে, বাইরে খেতে যেতে হয়, তখন কিছুটা বিলাসী হওয়া ছাড়া উপায় থাকে না। শনিবার ছুটির দিনে ঘণ্টা দুয়েকের জন্য পুরোপুরি ভোজনবিলাসী হতে হলো।
বড় মেয়ে সারাহ মাহমুদের তেরোতম জন্মদিন ছিলো ৫ই আগস্ট। জন্মদিন উপলক্ষে বাইরে রেস্টুরেন্টে খেতে নিয়ে যাওয়ার একটি প্রতিশ্রুতি ছিলো আগে থেকেই। কিন্তু ব্যস্ততার কারণে সেটা হয়ে ওঠেনি । কোভিড বিধি-নিষেধ ওঠে যাওয়ার পর আগের মতোই ব্যস্ততা ঘিরে ধরেছে । আজকের দিনটি ঘরেই ছিলাম। তাই স্ত্রী তাগাদা দিয়ে বললেন, দুপুরের খাবারটা বাইরেই সারা যাক। তাহলে প্রতিশ্রুতি রক্ষা হয়ে যাবে।
আমি একবাক্যে সম্মতি জানালাম। গন্তব্য ডেগেনহ্যামে বাড়ি থেকে মাইল দেড়েক দূরে স্থানীয় মদীনা মসজিদের লাগোয়া ‘আলী’স কিচেন’। বাংলায় তরজমা করলে অর্থ দাঁড়ায় ‘আলি’র রান্নাঘর। সিলেটি ভাষায় বললে বোধহয় বলা যায় “আলি মিয়ার উন্দাল”।
মিনিট সাতেক ড্রাইভ করে পৌঁছলাম গন্তব্যে । ছিমছাম ছোট্ট একটি রেস্টুরেন্ট। প্রবেশ পথে শামিয়ানা টাঙিয়ে পৃথক দুটো টেবিলে চারটি চেয়ার সাজানো । যারা বাইরের মৃদুমন্দ বাতাসে বসে ভোজন করতে চান তাদের জন্য সুন্দর ব্যবস্থা ।
রিসেপশনে রাখা আছে একটি লম্বা সোফা। যারা টেকওয়ে নিতে আসেন তারা সেখানে বসে অপেক্ষা করেন। এরপর দুটো হালকা পার্টিশানে দুটো রুম । প্রতি রুমে দুটো করে টেবিলে আনুমানিক পঁচিশ ছাবিবশ জন বসার ব্যবস্থা। রুম দু’টোর চার দেয়ালে দৃষ্টিনন্দন কারুকাজ আকৃষ্ট করার মতো।
সেখানে পৌঁছলে অভ্যর্থনা জানালেন রেস্টুরেন্ট মালিক। মালিক-ওয়েটার সকলেই পরিচিত। কারণ তারা লাগোয়া মদীনা মসজিদের নিয়মিত মুসল্লি । মসজিদে নিয়মিতই দেখা হয়। তাই বাড়তি খাতির যত্নের অভাব হলো না।
ম্যানুতে একনজর চোখ বুলিয়ে “আলী’স স্পেশাল প্লাটার” অর্ডার দিতে ঐক্যমতে পৌঁছলাম । এই স্পেশাল প্লাটারের সাথে দুটো ‘কোল্ড ম্যাজেস’ (স্টার্টার) অন্তর্ভুক্ত আছে । ম্যানুর ছয়টি ‘কোল্ড ম্যাজেস’ আইটেম থেকে আমরা দুটো বেছে নিলাম। একটা হচ্ছে- ‘শাকসুকা’, অন্যটি ‘বাবা গানুশ’।
শাকসুকা হচ্ছে- বেগুন, আলু, গাঁজর ও মাশরুম ভাজির সাথে মরিচ ও টমেটোর আচার মিশিয়ে তৈরি এক ধরনের বিশেষ খাবার।
আর ‘বাবা গানুশ’ হলো বেগুন ভাজির সাথে রসুন, জয়তুনের তেল, লেবুর রস, ধনিয়া পাতা ও তাহিনী নামক এক ধরনের আচার মিশিয়ে তৈরি করা খাবার। এ দুটোই খেতে হয় রুটির সাথে মিশিয়ে। মিনিট দশেকের মধ্যে ‘শাকসুকা’ ও ‘বাবা গানুশ’ টেবিলে চলে এলো। সাথে এলো বিশেষ ধরনের টার্কিশ রুটি ও হুমুস।
এগুলো খেতে খেতে চলে এলো ‘আলী’স স্পেশাল প্লাটার ‘। সুন্দর চারকোণার একটি থালার মধ্যে দুম্বার মাংসের টুকরো টুকরো শিশ কাবাব, মোরগীর মাংসের কাবাব, মোরগীর উইং, মোরগীর কোফতা, মিক্সড ডোনার ও মোরগের পিরজোলা ।
এগুলোর নিচে বাশমতি চালের ঘি মাখানো ভাত ও কুচকুচ । সঙ্গে সালাদ, মরিচ ও রসুনের আচার । পানীয় হিশেবে একটি কোলা, চারটি টেংগো অরেঞ্জ ক্যান আর এক জগ ঠাণ্ডা পানি।
৬ সদস্যের পরিবারে সর্বকনিষ্ঠ সদস্য সালসাবিলের বয়স মাত্র দেড় বছর। তিনি শুধু এটা-ওটা নাড়াছাড়ার মধ্য দিয়ে আমাদের সঙ্গ দিলেন । ৫ জনের পক্ষে আলী স্পেশালের বিস্তৃত থালা সাবাড় করা ছিলো আসলেই অসম্ভব । তাই ওয়েটার অবশিষ্ট খাবার দুটি কন্টেইনারে সযতনে ভরে হাতে তুলে দিলেন। অনায়াসে রাত এবং কাল সকালও চলে যাবে।
সময়টা খুবই ভালোই কাটলো। খাবার যদি হয় সুন্দর পরিবেশে, স্বপরিবারে তাহলে স্বাদ যেন বহুগুণ বেড়ে যায়। প্রায় ঘণ্টা দুয়েক আমরা বসলাম। খেতে খেতে নানা গল্প ও জোকস করলাম।
আজকের আউটসাইট ভোজ যদিও সারাহ’র জন্মদিন উপলক্ষে, তবে মাঝে মধ্যে এভাবেই বাইরে খেতে যেতে হয় । ছেলে মেয়েরাই সেই রুটিন করে নিয়েছে।
পারিবারিক বন্ধনের জন্য এই আয়োজন আসলেই চমৎকার। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটিয়ে তাদের স্মৃতির রাজ্যে বিচরণ করতে চাই। যেদিন এই পৃথিবীতে থাকবোনা সেদিন এই স্মৃতিগুলো যেন আমাকে তাদের মধ্যে বাঁচিয়ে রাখে। আমি যেন ওদের অন্তরে থাকতে পারি । ওরা যেন আমাকে ভালোবাসে এ জীবন-পরজীবনে।
সারাহকে জন্মদিনের বিলম্বিত শুভেচ্ছা, শুভকামনা। ওর সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য সকলের কাছে দোয়াপ্রার্থী।


আরও পড়ুন

Any kind of Fine Dating Sites Just for Relationship?

         Although it holds true there...

জেনারেল ওসমানী ছিলেন গণতান্ত্রিক পূজারী ও মানবতাবাদী

         তাসলিমা খানম বীথি: জেনারেল মহম্মদ...

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে সিলেট জেলা আ.লীগের দোয়া ও খাবার বিতরণ

         সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক বাংলাদেশ আওয়ামী...