সিলেটে বাড়ছে ফলমূলের দাম

,
প্রকাশিত : ১৫ আগস্ট, ২০২১     আপডেট : ১১ মাস আগে

সিলেটে ক্রমশই বাড়ছে ফলমূলের দাম। লকডাউনের অজুহাতে খুচরা বাজারে প্রায় দ্বিগুণ মূল্য হাঁকছেন বিক্রেতারা। প্রচুর পরিমাণে আমদানী থাকা স্বত্ত্বেও দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় হতাশ ক্রেতারা। বেশী দামে ফল বিক্রির কারণে নগরীতে বিভিন্ন সময়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হলেও স্থিতিশীল থাকছে না বাজার পরিস্থিতি। নগরীর বন্দর বাজারসহ অন্যান্য বাজার ও ফুটপাত ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়।

দক্ষিণ সুরমার কদমতলিস্থ কেন্দ্রীয় ফল মার্কেট থেকে জানা যায়, লকডাউন পরিস্থিতিতেও সিলেটে ফলের পর্যাপ্ত সরবরাহ বিদ্যমান ছিল। লকডাউনের বিধিনিষেধের আওতামুক্ত ছিল পণ্যবাহী পরিবহণ। যার ফলে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সিলেটে ফলমুলের যোগান ছিল নিয়মিত। গত ১১ আগস্ট থেকে শিথিল করা হয়েছে লকডাউন। এরপরও খুচরা বিক্রেতা দাম ছাড়ছেন না। তাদের ভাষ্য- লকডাউনের ফলে ফলের মজুদ কম। যার দরুণ বেশী দামে কিনতে হয় তাদের।

অপরদিকে, কেন্দ্রীয় ফল মার্কেটের একটি সূত্র জানায়, পাইকারী হিসেবে মাল্টা, আপেলসহ অন্যান্য ফলমুলের দাম তেমন কোন পরিবর্তন হয়নি। বরং কিছু কিছু ফলের দাম পূর্বের চেয়ে কম দামেই বিক্রি করছন তারা। বাজারে ফলের মজুদ পর্যাপ্ত রয়েছে। কোন সংকট নেই বলেও সূত্রটি জানায়।

এদিকে, পর্যাপ্ত মজুদ থাকার পরও খুচরা বাজারে বেশী দামে বিক্রি হচ্ছে ফলমুল। নগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, আপেল বিভিন্ন আকার ও ধরণভেদে ২২০ থেকে ২৫০ টাকা, আঙুর রকম ভেদে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, ডালিম প্রতি কেজি ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, আনারস প্রতিপিস ৮০ টাকা, কাঠাল আকার ভেদে ১৫০ থেকে ৩৫০ টাকা, পেয়ারা প্রতি কেজি ১০০ থেকে ১২০ টাকা ও মাল্টা প্রতি কেজি ২৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এসব খুচরা ব্যবসায়ীরা লকডাউনে ফলমুলের মজুদ কম হওয়ার অজুহাত দিয়ে জানান, লকডাউনে পরিবহন সংকটের কারণে ফলের মজুদ কম ছিল। এ জন্য বেশী দামে তাদেরকে কিনে আনতে হয়। ফলে, বিক্রি করতে হচ্ছে বেশী দামে। ব্যবসায়ীরা জানান, করোনাকালে ফলের বিক্রি বেড়েছে আগের চেয়ে বেশী। সবচেয়ে বেশী বিক্রি হচ্ছে আম, মাল্টা, আঙুর, আপেল ও পেয়ারা।
এদিকে, বাজারের চেয়ে ফুটপাত ও ভ্যানগাড়িতেও বেশী দামে ফল বিক্রি করছেন ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়িরা। নগরীর বন্দরবাজার, মেডিক্যাল রোড, মধুশহীদ, লামাবাজার, জিন্দাবাজারসহ অন্যান্য স্থানের বিক্রেতাদের সাথে আলাপকালে জানা যায়, আপেল বিভিন্ন আকার ও ধরন ভেদে ১৮০ থেকে ২০০ টাকাা, আঙুর ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, ডালিম (ছোট) প্রতি কেজি ৩৫০ টাকা, আনারস প্রতি পিস ৬০ থেকে ৮০ টাকা, মাল্টা প্রতি কেজি ২০০ টাকা, পেয়ারা প্রতি কেজি ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এসব ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীদের কাছেও মূল্য বৃদ্ধির অজুহাত ছিল ‘লকডাউনে মজুদ কমে যাওয়া’।
কয়েকজন ক্রেতার সাথে আলাপকালে তারা জানান, করোনাকালে চিকিৎসকেরা পরামর্শ দিচ্ছেন বেশী করে ফলমুল খাওয়ার জন্য। সেজন্যই ফলমুল কিনতে হচ্ছে বেশী করে। কিন্তু দামের কারণে হতাশা প্রকাশ করেন তারা। ফলমুলের বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন এই ভুক্তভোগী ক্রেতারা।


আরও পড়ুন

অপ্রিয় অস্তিত্বের আবাস

         লেখক:: সৈয়দ সাকিব আহমদ। আমি...

রকি দেবের উপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন

         সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক :  জাগো...

স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রাই রোগ থেকে রক্ষা করতে পারে

         স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় পরিচালক...