সিলেট টু ডেট্রয়েট

,
প্রকাশিত : ২৩ আগস্ট, ২০২১     আপডেট : ১০ মাস আগে

মাহমুদ রহমান :
আজ থেকে চার বছর আগে প্রিয় সিলেট থেকে কল্পনায় আঁকা, লোকমুখে শোনা এবং পত্র-পত্রিকায় পড়া অজানা শহর ডেট্রয়েটের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করি। আগস্ট মাসের ২২ তারিখ সিলেট শহরের শেকড় উপড়ে নভো এয়ারের দুপুরের ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা। তারপর রাতে ঢাকা থেকে ডেট্রয়েটের উদ্দেশ্যে। ২৩ তারিখ রাতে নির্ঘুম দুই রাতের বকেয়া ঘুমে ঢুল ঢুলু চোখ, ক্ষুধা নিবারণে অক্ষম বিমানের খাবারের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে ডেট্রয়েট বিমানবন্দরে পা রাখা। চিরচেনা শহর ছেড়ে আসার কষ্ট, দীর্ঘপথ ভ্রমণের ক্লান্তি এবং অজানা ভবিষ্যতের চিন্তার ছাপ ছিল বিধ্বস্ত চেহারায়। বিমানবন্দরে অনেক আত্মীয়-স্বজন ছিলেন আমাদের রিসিভ করতে।
কে কোন গাড়ীতে উঠে বিমানবন্দর থেকে ছোটদির বাসায় পৌঁছি তা মনে পড়ছে না আজ। তবে আমি ছিলাম মুরাদ ভাইয়ের গাড়ীতে। সামনের সিটে বসে নতুন শহরের রাতের রাস্তাঘাট দেখতে দেখতে ওয়ারেনের বাসায় পৌঁছি। খাওয়া-দাওয়া সেরে তাড়াতাড়ি বিছানায় যাওয়া ছাড়া কারো সঙ্গে খুব একটা কথা হয়নি।
পরদিন সকাল থেকেই আমেরিকা দেখা শুরু। দেখতে দেখতে আজ চার বছর। এখন আমি নতুন এ জীবনে অভ্যস্ত।
আমেরিকায় আসার দিন ছাড়াও আগস্ট মাসে আরও দুটো দিন আমার কাছে স্মরণীয়। এবছর এই মাসের ১১ তারিখ স্টারলিং হাইটসে নিজের বাসায় উঠি। তেরো বছর আগে একই মাসের ১৫ তারিখ কলির সঙ্গে এনগেজমেন্ট।
আরও একটি ভয়ঙ্কর স্মৃতি দুদিন আগে ঘটেছে। বাসার সিড়িতে পড়ে ছেলের ব্যাকবোন ফ্র্যাকচার হয়ে যায় এই ২০ তারিখ রাতে। মধ্যরাতে ছেলের যে চেহারা দেখেছি তা যেন আমাকে এজীবনে আর দ্বিতীয়বার দেখতে না হয়। ঐ রাতে ছেলের চেহারা মনে হলেই অন্য আনন্দ স্মৃতিগুলো ম্লান হয়ে যায়।
দুঃখের মধ্যেও ভালো লাগে চিকিৎসা সেবার মান, তড়িৎ ব্যবস্থা নেয়ার কথা মনে হলে। ছেলের চেহারা দেখে কাঁপা কাঁপা আধো কান্না ভরা কন্ঠে ৯১১ এ ফোন দেই। ফোন ধরে ওরা ঘটনার বিবরণ জানতে চায়। ছেলের বয়স কত, কীভাবে এক্সিডেন্ট হয়, কোথায় লেগেছে, রক্ত বেরুচ্ছে কিনা, তার কি অন্য কোনো মেডিকেল সমস্যা আছে ইত্যাদি ইত্যাদি- আমি তখন বিনয়ের সঙ্গে বললাম, প্লিজ আর প্রশ্ন না করে তাড়াতাড়ি আসুন, আমার ছেলেকে বাঁচান!
আমার বিরক্তি লাগছিল প্রশ্ন করে সময় ক্ষেপনের জন্য। বললাম, ফোন রেখে তাড়াতাড়ি আসেন। তখন ও প্রান্ত থেকে দরোজা খোলার জন্য বলে। দরোজা খুলে দেখি তারা আমার ড্রাইভ ওয়েতে এম্বুলেন্স থেকে নামছে। তখন বুঝলাম ফোন পেয়েই তারা এম্বুলেন্স নিয়ে আমার বাসার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছে এবং বাসায় এসে যে প্রশ্নেগুলো প্রথমে করা দরকার তা পথেই শেষ করে নিচ্ছে। যাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে দেরি না হয়।
ভালো লাগার ষোলকলাপূর্ণ হবে যেদিন দেখবো বাংলাদেশেও সবাই এরকম সুবিধা ভোগ করছে। নিশ্চয়ই একদিন এগুলো আর দেশের মানুষের কাছে গল্প থাকবে না।
ভালো থেকো বাংলাদেশ। ভালো থেকো আমেরিকা।
আগস্ট ২৩, ২০২১
মিশিগান, যুক্তরাষ্ট্র।


আরও পড়ুন

ঐতিহাসিক শাহী ঈদগাহ ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে

         মুসলিম উম্মার সর্ববৃহৎ ধর্মীয় অনুষ্ঠান...

আয়কর মেলার সিলেটে ৭দিনে ৪৪ কোটি ৭৫ লাখ আদায়

          সপ্তাহব্যাপী আয়কর মেলায় সিলেট...

শাল্লায় ট্রাফিক সপ্তাহ পালিত

         হাবিবুর রহমান হাবিব, শাল্লা সুনামগঞ্জ...

পুরো ঘটনার বর্ণনা দিলেন বিউটির নানি

         বিগঞ্জের আলোচিত বিউটি হত্যা মামলা...