সিলেটেও চলছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার ব্যস্ততা

,
প্রকাশিত : ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১     আপডেট : ১০ মাস আগে

ইউনুছ চৌধুরী
সারাদেশের মতো সিলেটেও চলছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার ব্যস্ততা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টরা ছাড়াও অভিভাবকরাও এ নিয়ে যারপরনাই ব্যস্ত সময় পার করছেন। সর্বত্র চলছে এক ধরনের উদ্দীপনা। সবমিলিয়ে সিলেট বিভাগের প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় স্তরের প্রায় ২৫ লক্ষ শিক্ষার্থী ফিরবেন শিক্ষাঙ্গণে।

করোনা মহামারীতে প্রায় দেড় বছর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার পর খুলে দেয়ার ঘোষণায় সংশ্লিষ্ট সকলের মধ্যেই সৃষ্টি হয়েছে তোড়জোড়। শিক্ষার্থীদের গ্রহণ করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অপরদিকে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে প্রেরণে তৎপর অভিভাবকরা। ছেলে মেয়ের জন্য শিক্ষা সামগ্রীসহ নতুন জামা-কাপড় ক্রয় ও বিদ্যালয়ের বকেয়া পরিশোধে খোঁজ-খবর নিচ্ছেন অভিভাবকরা। গতকাল রোববার শিক্ষা সংশ্লিষ্টসহ অভিভাবকদের সাথে কথা বলে এমনটাই জানা যায়।

শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্যানিটাইজার ব্যবহার, শিক্ষকদের টিকাদান, পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। গতকাল আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে এসএসসি, এইচএসসি পরীক্ষার্থী এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন ক্লাস করবেন মর্মে সিদ্ধান্ত হয়েছে। অন্য শ্রেণির শিক্ষার্থীরা আপাতত সপ্তাহে একদিন ক্লাস করবে বলে জানানো হয়। পর্যায়ক্রমে পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক করে দেবে। প্রতিষ্ঠান গুলোকে সরকারের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে বলে নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সিলেট বিভাগের প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত প্রায় ২৫ লক্ষ শিক্ষার্থী রয়েছে। এর মধ্যে প্রাথমিকে ১২ লক্ষ ৮৮ হাজার, মাধ্যমিকে ৮ লক্ষ ১৮ হাজার, উচ্চ মাধ্যমিক ও কলেজে ২ লক্ষ ৫০ হাজার এবং সরকারি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ মিলে প্রায় ২৭ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। এছাড়া, কওমী মাদরাসায় প্রায় ২০ থেকে ২২ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

গতকাল রোববার সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এবং বিভিন্ন ব্যক্তির সাথে কথা বলে জানা গেছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার ঘোষণা আসার পরপরই অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে চাঞ্চল্য। প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও প্রতিদিনই পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করা হয় শ্রেণি কক্ষ ও শিক্ষাঙ্গণ। তবে দীর্ঘদিন পরে শিক্ষার্থীদের শ্রেণি কক্ষে আসার বিষয়ে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতায় আরেকটু যত্মবান হতে হবে বলে জানান শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান। শিক্ষার্থীদের গ্রহণে শিক্ষাঙ্গণ প্রস্তুত রয়েছে। এসাইনমেন্ট ভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর পর থেকে শিক্ষার্থীদের প্রতিষ্ঠানে সীমিত পরিসরে যাওয়া আসা শুরু হয়ে গেছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। অপরদিকে, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে প্রেরণে অভিভাবকদেরও জোর তৎপরতা শুরু হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে খোঁজ খবর নিতে শুরু করেছেন অভিভাবকরা। করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত অভিভকরা বেতন-ফি নিয়ে কথা বলছেন। অনেকে ছেলে মেয়ের শিক্ষা উপকরণসহ স্কুল ড্রেস তৈরি করতে ছুটছেন দর্জি ঘরে। এর মধ্যে শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারাও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার পর কিভাবে পরিচালিত হবে-সে ব্যাপারে শিক্ষক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে কাজ করছেন।

গোলাপগঞ্জের উপজেলার সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম জানান, বিদ্যালয় খুলে দেয়ার ব্যাপারে তারা বিদ্যালয় ভিজিট করছেন এবং শিক্ষকদের সাথে কথা বলছেন। স্বাস্থ্য নিদের্শনা পালনে দিকনির্দেশনা প্রদান করা হচ্ছে। বিদ্যালয় ভালো ভাবে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করা, পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা রাখা, সেনিটাইজার ব্যবহারসহ বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষকদের নির্দেশনা প্রদান করা হচ্ছে। শিক্ষকরা ভ্যাকসিন গ্রহণ করেছেন কি-না দেখা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে সিলেট সরকারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক জানান, বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের গ্রহণের জন্য তারা প্রস্তুত। সরকারের নির্দেশ মতই পাঠদান শুরু হবে।

শিক্ষা পরিবারের সবচেয়ে বড় অংশ প্রাথমিক শিক্ষা। প্রায় ৫ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় নিয়ে সিলেট বিভাগে মোট শিক্ষার্থী ১২ লক্ষ ৮৮ হাজার ।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় উপ-পরিচালক মো. মুসলেম উদ্দিন জানান, উপজেলা ও জেলা শিক্ষা অফিসারবৃন্দ বিদ্যালয় মনিটরিং করছেন। সহকারী শিক্ষা অফিসারবৃন্দ বিদ্যালয় ভিজিট করছেন। সরকারি নির্দেশনা পালন করা হচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। কোথাও সমস্যা থাকলে তা সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।

শিক্ষা পরিবারের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শিক্ষার্থী রয়েছে মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও কলেজ শাখায়। এই শাখায় মোট শিক্ষার্থী রয়েছে প্রায় ১০ লক্ষ ৬৮ হাজার।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় পরিচালক প্রফেসর আব্দুল মান্নান খান জানান, সকল প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছেন এবং নিচ্ছেন। তবে সরকারের কোন চিঠি এখনো তারা পাননি। চিঠি পেলে পরবর্তি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নতুন নিয়ম ও শিক্ষকদের রোষ্টারের ব্যাপারে কী করা হবে তা চিঠি পাওয়ার পর দেখা হবে।

এদিকে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার ঘোষণায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উৎসাহ উদ্দীপনা সবেচেয়ে বেশি। শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন পরে বিদ্যালয়ে যাওয়ার সুযোগ এবং অভিভাবকরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার স্বস্তি পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।


আরও পড়ুন

কমলগঞ্জে গুটি বসন্ত রোগে ২ গবাদি পশুর মৃত্

         মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায়...

মুক্তিযোদ্ধাদের মূল্যায়নও আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই হয়

         সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক :  বাংলাদেশ...

সিলেটে ৫০ তম জাতীয় সমবায় দিবস পালিত

         সমবায় সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করা...